ইবনুল কায়্যিম রহিমাহুল্লাহ তার মিফতাহুল দারিস সাআ'দাতে বলেছেন, ইলমের স্তর হলো ৬ টি। আর এগুলো হচ্ছে জ্ঞান অর্জনের সোপান। জ্ঞান অর্জনের সিঁড়ি। তিনি বলেছেন,
» ইলমের অর্জনের প্রথম ধাপ হল উপযুক্ত প্রশ্ন করা এবং সঠিক উপায়ে জ্ঞান অন্বেষণ করা।
কিছু লোক জ্ঞান থেকে বঞ্চিত হয় কারণ তারা সঠিক প্রশ্ন করা এবং ইলমের অনুসন্ধানের বিষয়টি আয়ত্ত করে না। তারা কোন প্রশ্নই করে না। আবার কিছু লোকের মনে প্রশ্ন আসলেও তারা প্রশ্ন করেন না অথবা এমন বিষয়ে প্রশ্ন করেন যেগুলোর চেয়ে প্রশ্ন করা কিংবা জানতে চাওয়ার মত অনেক গুরুত্বপূর্ণ ও মৌলিক বিষয় আছে। দ্বীনের জন্য অত্যন্ত জরুরি বিষয়গুলো বাদ দিয়ে কিছু মানুষ কেবল অহেতুক বিষয়গুলোর পিছনে পড়ে থাকে। যাদের ইলম নেই, তারা কিভাবে জ্ঞান অর্জন করতে হবে? এই ন্যূনতম মৌলিক জ্ঞানটুকুও রাখেন না এবং নিজেই দ্বীন শিখতে যান। তাদের অনেকের মাঝে এই ধরনের সমস্যাগুলো দেখা যায়। তাই সালামদের কেউ কেউ বলেন যে, প্রশ্ন করার ধরন ও জ্ঞান অন্বেষণ পদ্ধতি হচ্ছে তার জ্ঞানের অর্ধেক। তারা যথার্থই বলেছেন। ধরুন, কেউ সবেমাত্র দ্বীন সম্পর্কে ইলম অর্জন করা শুরু করেছে। এখন, প্রথমে যদি সে উত্তরাধিকার আইন বা আল-ফারায়েয নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে অথচ ফিকহুত ত্বহারাহ বা পবিত্র হওয়ার নিয়মটুকু পর্যন্ত না জানে তবে কি সেটা গ্রহণযোগ্য হবে? এর আরো বাস্তব উদাহরণ আছে। অনেকেই শুরুতে আকিদা আত-ত্বহাবী শুরু করেন এবং বোঝার চেষ্টা করেন। অথচ এটা এতটাই কঠিন একটি কিতাব যা বুঝতে গিয়ে আলিমরাও হিমশিম খান।
![]() |
| Image Courtesy: Pixabay |
কথিত আছে যে, আলি ইবনে আবু তালিব (রা.) বলেন, তোমরা যখন কোন আলিমের সাথে বসবে তখন কথা বলা অপেক্ষা শোনার জন্য বেশি আগ্রহী হবে। কথা না বলে মনোযোগ দিয়ে শুনবে।
জ্ঞান অর্জনের তৃতীয় ধাপ হলো- অনুধাবন।
এটা একটা স্পষ্ট বিষয়।
» জ্ঞান অর্জনের চতুর্থ ধাপ হলো- মুখস্ত করা।
দ্বীনি ইলম অর্জনে এমন অনেক বিষয় রয়েছে যা আপনাকে মুখস্ত করতে হবে।
» পঞ্চম ধাপ হলো- শিক্ষা দেওয়া।
জ্ঞান অর্জনের জন্য আপনাকে শেখাতে হবে।
» ষষ্ঠ ধাপ হলো- জ্ঞান অর্জনের ফলাফল।
ইলমের ফলাফল হলো অর্জিত ইলমের উপর আমল করা। সেই সাথে অর্জিত ইলমের সীমারেখা মেনে চলা ও এর হক আদায় করা। আলী ইবনে আবু তালিব (রা.) বলেন, ইলম হচ্ছে আমলের জন্য। যদি আমল করা হয় তবে ইলম স্থায়ী হয় আর না হলে ইলম মুছে যায়।
আশ-শাআ'বী বলেন, ইলমের আমল করার মাধ্যমে আমাদের জন্য ইলম মুখস্থ করা সহজ হতো।
আল-ফুদাইল ইবনে আ'য়াদ, মুহাম্মাদ ইবনে নাদর, সুফিয়ান ইবনে উআ'ইনা, ওমর ইবনে আ'লা এবং অন্যান্য সালাফদেরও একই ধরনের উক্তি আছে।
আল-হাল্লাল রহিমাহুল্লাহ যখন ব্যাকরণ শিখবেন বলে মনস্থ করলেন। তিনি বলেছেন, "আমি যখন ব্যাকরণ শিখতে গেলাম প্রথম বছর আমি চুপ ছিলাম। পরের বছর আমি নজর দিয়ে তা নিরীক্ষণ করলাম। তারপর ভর্তি বছরে আমি তা নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করলাম। এবং চতুর্থ বছর গিয়ে আমি আমার শাইখ কে প্রশ্ন করলাম।" অর্থাৎ তার প্রশ্ন করতেই চার বছর লেগে গিয়েছিল।
তাই বলে আমি আপনাদের এমন করতে বলছি না। এটা বলার উদ্দেশ্য হলো, সালাফদের এই ঘটনাগুলো থেকে আমরা যেন বুঝতে পারি যে, জ্ঞান অর্জনের ব্যাপারে তারা কতটা ধৈর্যশীল ছিলেন। কারণ, জ্ঞান অর্জন মূলত একটি কাঠামোবদ্ধ প্রক্রিয়া। একটি নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়া। এটি বিক্ষিপ্ত বা এলোমেলো প্রক্রিয়া না।
বা-রকাল্লাহু লানা- অলাকুম। আল্লাহুম্মা সল্লি আ'লা সায়্যিদিনা মুহাম্মাদ। অআ'লা- আ-লিহি- অসহবিহি- অসাল্লিম।
▪ শাইখ আহমাদ মুসা জিবরীল
বই: তাওহীদের মূলনীতি ১ম খন্ড, পৃষ্ঠা: ৬৯।
~(ইউটিউব ভিডিও থেকে)
